
মিঠুন রানাঃ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বোমাবর্ষণে চরম মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটির তৃতীয় দিনেও ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা চালিয়েছে, এতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৮৩ জন আহত হয়েছেন। এই নিয়ে চলমান সংঘাতে গাজার মোট প্রাণহানি প্রায় ৫০ হাজার ৪০০-তে পৌঁছেছে।
গাজায় সহায়তা প্রবেশ বন্ধ থাকায় সেখানে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। আলজাজিরার সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) পরিচালিত ২৫টি সহ গাজার সমস্ত বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে। ইসরায়েলি অবরোধ ৩১তম দিনে গড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দীর্ঘতম অবরোধ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু গাজা নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ জোরদার হয়েছে। শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সৈন্যরা পশ্চিম তীরের ডুমা গ্রামে আক্রমণ চালিয়েছে, যেখানে কমপক্ষে পাঁচজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

গত ১৯ জানুয়ারি, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে দুই মাস পর, মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতানৈক্যের কারণে ইসরায়েল ফের হামলা শুরু করে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজার ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
সারা বিশ্বের মুসলিমরা যখন ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন, তখন গাজার ২২ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি শুধুমাত্র বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। খাদ্যের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং ইসরায়েলি অবরোধের কারণে নতুন করে ত্রাণ প্রবেশ করতে পারছে না। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গাজায় কোনো ত্রাণ প্রবেশ করেনি।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, মার্চ ১৮ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে গাজার ৮২ শতাংশ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এতে করে বেকারিগুলোতে জ্বালানি সরবরাহসহ জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গাজায় চলমান সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অবিলম্বে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইসরায়েলি সরকার এখনো তাদের সামরিক অভিযান বন্ধের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি আরও কতটা ভয়াবহ রূপ নেবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফিলিস্তিনি জনগণের টিকে থাকার এই সংগ্রাম কবে শেষ হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।