
মিঠুন রানাঃমিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,৭০০ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার ৭.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্প শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল, যা প্রাচীন স্থাপত্য ও আধুনিক ভবন ধ্বংস করে দিয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক শাসক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এক টেলিভিশন ভাষণে জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং এটি ৩,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আহতের সংখ্যা ৪,৫২১ ছাড়িয়েছে, এবং এখনো ৪৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পার্শ্ববর্তী থাইল্যান্ডেও অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২:৫১ মিনিটে, ভূমিকম্প আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট সময়ে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মান্দালয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সামনে উদ্ধারকর্মীরা থেমে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে জাতীয় পতাকাও অর্ধনমিত রাখা হয়।
ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও সহায়তা পৌঁছাতে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্র বাহিনীগুলো সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সামরিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে বাধাহীন প্রবেশের অনুমতি দেয়।
এদিকে, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে উদ্ধারকারীরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চার দিন পার হয়ে যাওয়ায় সম্ভাবনা কমে আসছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, এখনো প্রায় ৭০টি মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে, এবং অলৌকিকভাবে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।