
মিঠুন রানা : মুসলিম বিশ্বের জন্য আনন্দের দিন ঈদুল ফিতরের সকালে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। রবিবার ভোরে দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিস শহরে একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র।
এছাড়া, প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (PRCS) জানিয়েছে, রাফাহ শহরে ইসরায়েলি হামলার শিকার ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আল জাজিরার তদন্ত সংস্থা সানাদ উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, ওই হামলায় অন্তত পাঁচটি উদ্ধার যান ধ্বংস হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে PRCS এক বিবৃতিতে জানায়, “এটি শুধু আমাদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং মানবতার জন্যই এক বিশাল ক্ষতি। ইসরায়েলি বাহিনীর এই হামলা কেবলমাত্র যুদ্ধাপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।”
ইসরায়েল মার্চের শুরু থেকেই গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।
গাজার দেইর আল-বালাহ শহর থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন, “ঈদে সাধারণত পরিবারের সবাই মিলে সুস্বাদু খাবারের মাধ্যমে উৎসব উদযাপন করে। কিন্তু গাজার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অনেকেই একবেলা খাবারও জোগাড় করতে পারছে না।”
খাদ্যের সংকট চরমে পৌঁছেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অভিভাবকদের জন্য পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করাটা ‘অসম্ভব এক কাজ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই হামলার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামাসকে নিরস্ত্র হওয়ার এবং গাজা ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে হামাস ও ফিলিস্তিনি পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গাজায় সাম্প্রতিক হামলার মধ্যেই ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে নতুন একটি যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে। তবে ইসরায়েলের কড়া অবস্থানের কারণে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজার মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণ নেই।